বিস্ময় অ্যানসারস এ আপনাকে সুস্বাগতম। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং বিস্ময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন...
96 জন দেখেছেন
"পবিত্র কুরআন" বিভাগে করেছেন (5 পয়েন্ট)
আমি যে মসজিদে বা আমার বাড়ির পাশের মসজিদে যে ইমামের পিছনে সালাত আদায় করি ,তো আমি জানতে পারলাম সে ইমামের সুদের সাথে সম্পর্ক রয়েছে।তার পিছনে কি নামাজ হবে?
বন্ধ
করেছেন (4,771 পয়েন্ট)
ইসলাম বিরুধী বলতে কোন পর্যায়ের তা স্পষ্ট করুন। কারণ সব ইসলাম বিরুধীর হুকুম এক নয়। ধন্যবাদ।
করেছেন (5 পয়েন্ট)
যেমন: (১)ইমাম সুদখোর সে আল্লাহ ও তার রাসুলের সাথে লড়াই করতে প্রস্তুত। (২)আবার ইমাম আয়ামীলিগের সহকর্মী এর মানে ওনার নেতা ইসলাম বিরুধী।

3 উত্তর

+1 টি পছন্দ
করেছেন (1,026 পয়েন্ট)
 
সর্বোত্তম উত্তর
ইসলামে পবিত্র কুরআন ও হাদীসে সুদকে হারাম করা হয়েছে। সুদ দেওয়া বা নেওয়া দুটোই গুনাহের কাজ। যেখানে ইসলাম সুদকে সমর্থন করে না, সেখানে সুদ ব‍্যবসায়ী ইমামকে কিভাবে সমর্থন করবে? তাই কোনো সুদ ব‍্যবসায়ী ব‍্যক্তিকে বা সুদের সাথে সম্পর্কিত ব‍্যক্তিকে মসজিদের ইমাম বানানো যাবে না বা তার পিছনে নামাজ পড়া যাবে না। মসজিদের ইমামকে হতে হবে মুমিন আর সুদ ব‍্যবসায়ী কখনো মুমিন হতে পারে না। অতএব, যে মুমিন নয় তাকে মসজিদের ইমাম হিসেবে নিয়োগ করা বা তার পিছনে নামাজ পড়া জায়েজ নয়। যেহেতু সুদ অনৈসলামিক কাজ, সেহেতু সুদ ব‍্যবসায়ী ইমামকে আপনি ইসলাম বিরোধী বলেছেন, এটা যথার্থ। ধন‍্যবাদ।
করেছেন (5 পয়েন্ট)
আমি একজন সাধারণ মানুষ আমার কথায় তো ইমাম চেন্জ হবে না।এখন আমি জামায়াত ছাড়া নামাজ পড়বনা কি?আমার বাড়ি থেকে অন্য মসজিদ অনেক দূরে,আমার করণীয় কি
করেছেন (4,771 পয়েন্ট)
সুদ ভক্ষণ বা সুদী লেনদেনের সাথে জড়িত হওয়ার কারণে কি একজন মানুষ বেঈমান হয়ে যায়? আপনার সদু্ত্তর কামনা করছি।
করেছেন (5 পয়েন্ট)
কেউ যদি একটা পাপ কাজ না করে,সেই কাজ কে যদি সমর্থন করে তাহলে সে সেই কাজের ভাগীদার হবে।
করেছেন (4,771 পয়েন্ট)
ভাগীদার হতে পারে এ কারণে কী তাকে বেঈমান বলা যায়। বোঝে বলবেন?
0 টি পছন্দ
করেছেন (14 পয়েন্ট)
নামাজ আদায়ের পূর্বে সাতটি আহকাম ঠিক রাখতে হয়।  যার তিনটি হলো শরীর পাক, নামাজের জায়গা পাক এবং পরিহিত কাপড় পাক। কোন একটি নাপাক থাকলো নামাজ হবে না।  যদিও মন একটি অপেক্ষিক ব্যাপার চিন্তা করলেও শরীরর অংশ ধরা যায়। উপরিউক্ত দুটি কারন নামাজে পবিত্রতার পরিপন্থী বলেই প্রতীয়মান সুতরাং বিষয়টি সুস্পট ।       
করেছেন (5 পয়েন্ট)
আপানার কথা বুঝলাম না!
0 টি পছন্দ
করেছেন (4,771 পয়েন্ট)

মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে সুদখোরদের প্রতি নিন্দা জ্ঞাপন করে বলেন-যারা সুদ খায়, তারা কিয়ামতে দণ্ডায়মান হবে, যেভাবে দণ্ডায়মান হয় ঐ ব্যক্তি, যাকে শয়তান আসর করে মোহবিষ্ট করে দেয়। তাদের এ অবস্থার কারণ এই যে, তার বলেছে : ক্রয় বিক্রয়ও তো সুদ নেয়ারই মত। অথচ আল্লাহ তায়ালা ক্রয় বিক্রয় বৈধ করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন। অতঃপর যার কাছে তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে এবং সে বিরত হয়েছে, পূর্বে যা হয়ে গেছে, তা তার। তার ব্যাপারে আল্লাহর উপর নির্ভরশীল। আর যারা পুনরায় সুদ নেয়, তারাই দোযখে যাবে। তারা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে। আল্লাহ তায়ালা সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দান-খায়রাতকে বর্ধিত করেন। আল্লাহ পছন্দ করেন না কোন অবিশ্বাসী পাপীকে। সূরা বাক্বারা, আয়াত নং-২৭৫-৭৬। মহান আল্লাহ আরো বলেন- হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যে সমস্ত বকেয়া আছে, তা পরিত্যাগ কর, যদি তোমরা ঈমানদার হয়ে থাক। অতঃপর যদি তোমরা পরিত্যাগ না কর, তবে আল্লাহ ও তার রসূলের সাথে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত হয়ে যাও। সূরা বাক্বারা, আয়ত নং-২৭৮-২৭৯।

এ বিষয়ে রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন- সাতটি ধ্বংসকারী বিষয় থেকে তোমরা বিরত থাকবে। সাহবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সেগুলো কী? তিনি বললেন, (১) আল্লাহর সঙ্গে শরীক করা। (২) যাদু (৩) আল্লাহ তায়ালা যাকে হত্যা করা হারাম করেছেন, শরীয়াত সম্মত ব্যতিরেকে তাকে হত্যা করা (৪) সুদ খাওয়া (৫) ইয়াতীমের মাল গ্রাস করা (৬) রণক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং (৭) সরল প্রকৃতির সতী মুমিন নারীদের অপবাদ দেয়া। সহীহ বুখারী-৪/১০, হাদী-২৭৬৬।

তিনি আরো ইরশাদ করেন, সুদ ভক্ষণকারী, তার লেখক এবং সাক্ষী সবার উপর অভিসম্পাত করেছেন। সহীহ মুসলিম; হা. নং ১৫৯৮। তিনি আরো ইরশাদ করেনসুদ দাতা ও গ্রহিতা দুজনকেই অভিশাপ দিয়েছেন। তিরমিযীহা. নং ১৩৩৭। হাদীসটি সহীহ। রাসূল (সা.) আরো বলেন, জেনে-শুনে এক দিরহাম সুদ খাওয়া ছত্রিশবার যিনার চেয়েও নিকৃষ্ট। মুসনাদে আহমদহা. নং ২১৯৫৭। উক্ত হাদীসটিকে আল্লাম মুনযিরী, হায়সামী ও শায়খ আলবানীসহ সকলেই সহীহ বলেছেন। রাসূল (সা.) আরো বলেন, সুদের গুনাহের সত্তুর (৭০) টি ধরণ রয়েছে। তার নুন্নতম ধরন হলো, নিজ মায়ের সাথে অপকর্ম করা। সুনানে ইবন মাজা; হা. নং ২২৭৪। উক্ত হাদীসকে আল্লামা মুনযিরী ও শায়খ আলবানী সহীহ বলেছেন।

সুতরাং যে ইমাম সুদ খায় সে হলো ফাসেক অর্থাৎ পাপাচারী, আর ফাসেক এর পিছনে নামায পড়া মাকরূহে তাহরীমি অর্থাৎ হারামের কাছাকাছি। তাই অন্য কোন মসজিদ থাকলে উক্ত ইমামের পিছনে নামায পড়া পরিহার করা আবশ্যক। হানাফী মাযহাবের বিখ্যাত কিতাব ফাতাওয়ায়ে শামী’’ তে এসেছে- ফাসেক ব্যক্তির হুকুম বেদআতির ন্যায়, সর্ব অবস্থায় তার ইমামতি মাকরুহে তাহরীমি। যদি এমন কোন অবস্থা হয় যে, ঐ ইমামকে না রাখলো অন্য কোন ইমামতি করারযোগ্য মানুষ খুজে পাওয়া যাবে অথবা তার জুলুমের আশংকা আছে ইত্যাদি জটিল কারণ থাকে, তাহলে প্রয়োজনের তাগিতে, মাকরুহে তাহরীমি হওয়া সত্ত্বেও তার পিছনে নামায পড়লে হয়ে যাবে। সুনানে আবু দাউদ; হা. নং ৫৯৪, সুনানে দারাকুতনি; হা. নং ৬, মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা; হা. নং ৭৫৭৩, ফাতাওয়ায়ে শামি- ১/৫৬০,আহসানুল ফাতাওয়া-৩/২০৯, ইমদাদুল ফাতাওয়া-১/৪১১, আল-মাবসূত ১/৪০,৪১, হিদায়া ১/৫৫, হাশায়াতুত তাবতাবি আলা মারাকিল ফালাহ ২/২৯৯, বাদায়িউস সানায়ে১/৩৮৬

টি উত্তর

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

294,160 টি প্রশ্ন

380,791 টি উত্তর

115,143 টি মন্তব্য

161,550 জন নিবন্ধিত সদস্য

বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
...