বিস্ময় অ্যানসারস এ আপনাকে সুস্বাগতম। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং বিস্ময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন...
62 জন দেখেছেন
"সিয়াম" বিভাগে করেছেন (1 পয়েন্ট )

3 উত্তর

+2 টি পছন্দ
করেছেন (6,282 পয়েন্ট)
রমজানে সিয়াম সাধনা মুসলিমদের জীবনে ইবাদতের স্বর্ণদুয়ার খুলে দেয়। মাহে রমজান আসে রহমত, নাজাত ও মাগফিরাতের সওগাত নিয়ে। একটি টেকসই ও আদর্শ জীবন গঠনের শিক্ষা নিয়ে আসে এই রমজান। ইসলাম সাম্য-মৈত্রী, খোদাভীতি, আত্মসংযম, আত্মশুদ্ধি, শৃঙ্খলা, মমত্ববোধ, দান, ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের যে মহান শিক্ষা দিয়েছে, তা বাস্তবায়নের সুযোগ এনে দেয় রমজানের সিয়াম সাধনা।

রোজা ইবাদতের সুযোগ তৈরি করে এটি সাধনার মাস, পবিত্রতা অর্জন ও ইবাদতের মাস। এ মাসে রোজাদারদের মন নরম ও পবিত্র থাকে। রোজাদার মাত্রই এ মাসে অধিক ফজিলত লাভ করতে চায়। ক্ষুধার যন্ত্রণা ও প্রবৃত্তির তাড়না থেকে বেঁচে থাকার প্রয়াস রোজাদারের জীবনকে অন্য আঙ্গিকে তৈরি করে। এ সময় রোজাদার বেশি বেশি দৈহিক ও আর্থিক আমল করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে। ফলে তার প্রতিটি কাজ হয় সুন্দর ও মার্জিত। এ সময় সাওয়াবের নিয়তে রোজাদার বেশি বেশি দান করে, অসহায় ও দরিদ্র মানুষকে অর্থ বা খাবার দিয়ে সাহায্য করে।

রোজার মাধ্যমে তাকওয়া অর্জিত হয়। মাহে রমজানের অন্যতম শিক্ষা হচ্ছে তাকওয়া অর্জন। সাওম পালনের মাধ্যমে মনের মধ্যে খোদাভীতি বা আল্লাহর ভয় সৃষ্টি হয়।

রমজানের রোজা মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে চলার শিক্ষা দেয়। হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানি ও আত্ম-অহংবোধ ভুলে গিয়ে সুখী, সুন্দর ও সমৃদ্ধিশালী সমাজ প্রতিষ্ঠার মাসই হলো মাহে রমজান। উম্মতে মুহাম্মদীর নৈতিক চরিত্র উন্নত করে সাহাবায়ে কিরামের মতো আদর্শ জীবন গঠন করার প্রশিক্ষণ এ মাসেই গ্রহণ করতে হয়।

রোজা মানুষকে প্রকৃত ধার্মিক হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ করে দেয়। রোজাদারদের ইবাদত-বন্দেগির ভেতর দিয়ে সব ধরনের অন্যায়-অত্যাচার, অশোভন- অনাচার, দুরাচার-পাপাচার ও যাবতীয় অকল্যাণকর কাজকর্ম থেকে বিরত হয়ে সংযম সাধনার পথ ধরে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে আত্মসমর্পণের শিক্ষা দেয়।

ক্ষুধা-তৃষ্ণার কষ্ট সহ্য করে একত্রে ইফতার, দীর্ঘ তারাবি নামাজ, সেহির এ সবকিছুর মধ্য দিয়ে একজন রোজাদার ব্যক্তি মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার দ্বারা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হন।

রোজা ধৈর্য, সংযম ও ত্যাগ-তিতিক্ষার প্রশিক্ষণ দেয়। রোজা আদব, শিষ্টাচার ও আদর্শ চরিত্র শেখায়।
+2 টি পছন্দ
করেছেন (4,771 পয়েন্ট)

রোযার আধ্যাতিক শিক্ষা:

রোযার আসল উদ্দেশ্য আল্লাহ বলে দিয়েছেন তাকওয়ার শিক্ষা গ্রহণ করা। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে: যদি তোমরা ধৈর্য্যরে পরিচয় দাও এবং তাকওয়া অবলম্বন করতে থাক তাহলে ইহা হবে এক দৃঢ়সংকল্পের ব্যাপার। (আল-ইমরান-১৮৬)

আমাদের জানা থাকা দরকার, অন্যান্য ইবাদত ও রোজার মধ্যে পার্থক্য হলোঅন্যান্য ইবাদতে রিয়াবা প্রদর্শনেচ্ছা কাজ করার সম্ভাবনা থাকে যেমননামাজ, জাকাত, দান-সদকাহ ইত্যাদি; কিন্তু রোজার মধ্যে রিয়া নেই। বান্দা পাহাড়ের পাদদেশে গিয়ে কিংবা লোকচক্ষুর অন্তরালে পানাহারের সুযোগ থাকলেও একমাত্র আল্লাহকে ভয় করে সকাল-সন্ধ্যা রোজা পালন করে। এ কারণেই রোজার ফজিলত অনেক। আল্লাহ তায়ালা রোজার প্রতিদান নিজেই দান করবেন। রমজান মাসকে সওয়াবের মৌসুমও বলা চলে। ভালো কাজ করলেই অন্য মাসের চেয়ে বেশি গুণ সওয়াব। অন্য মাসের ফরজের সওয়াব মেলে নফলে। দান-সদকায় সওয়াব সত্তর গুণ। রাসুল (সা.) এই মাসে ব্যাপক হারে দান করতেন। কাউকে ইফতার করালে ওই রোজাদারের মতো সওয়াব দেয়া হয়। সওয়াব তথা প্রতিদান কামানোর এ এক মহা সুযোগ।
রোজার মাধ্যমে বান্দা আত্মশুদ্ধি অর্জন করে। এক মাস রোজা রেখে বাকি এগারো মাস নিজেকে গুনাহমুক্ত রাখার সংকল্প গ্রহণ করেন মুসলিমরা। রোজা মানুষকে গরিব-দুঃখীর কষ্ট অনুধাবনে সহায়তা করে। একজন রোজাদার যখন সুবহে সাদিক থেকে মাগরিব তথা সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাদ্য ও পানীয় থেকে বিরত থাকেন, তখন তিনি বাস্তবিকই অনুভব করেন অনাহারে থাকা গরিব মানুষের জীবন যন্ত্রণা। তাই একজন রোজাদার রোজার মাধ্যমে সহমর্মিতা ও সহনশীলতার শিক্ষা লাভ করেন। রোজা মানুষকে চরম ধৈর্যের শিক্ষা দেয়। সামনে হালাল খাদ্য ও পানীয় এবং তা গ্রহণ করার শক্তি থাকা সত্ত্বেও ক্ষুধা ও তৃষ্ণা নিবারণ না করে নির্ধারিত সময়ের জন্য অপেক্ষা করেন একজন মুসলমান। এমন ধৈর্যের সুন্দর নিদর্শন আর কী হতে পারে? রোজা মানুষকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কৃচ্ছ্রতা সাধনের শিক্ষা দেয়। পরিমিত আহার ও নিদ্রার মাধ্যমে সুস্থ জীবনযাপনের শিক্ষা দেয়। শিক্ষা দেয় কঠোর পরিশ্রমের। সারাদিন রোজা আবার রাতে তারাবি ও তাহাজ্জুদ। সিয়াম-কিয়ামের এই কঠিন প্রশিক্ষণে মানুষ হতে পারে ভদ্র ও সুসভ্য। রোজা মানুষকে সুশৃঙ্খল হতে সাহায্য করে। মানবের মধ্যে যত খারাপ চরিত্র আছে তা ধুয়ে-মুছে ফেলে এই রোজা। যে ব্যক্তি রোজা রাখেন তিনি কখনও অন্যকে কষ্ট দিতে পারেন না। তিনি মিথ্যা কথা বলতে পারেন না। পারেন না কোনো হারাম কাজ করতে। কোরআনের আলোয় আলোকিত হয়ে একজন মুসলিম তার সুবাতাস সমাজে ছড়িয়ে গড়তে পারেন সুন্দর সমাজ।


+1 টি পছন্দ
করেছেন (5,630 পয়েন্ট)
রোজার শিক্ষা হলো মিথ্যা ত্যাগঃ বাজে কথার বহু রূপ: নিন্দা, অপবাদ, গালি, অশ্লীল বাক্য, হুমকি, মিথ্যা কথা, চোগলখোরি, চাটুকারিতা, মিথ্যা সাক্ষ্য, প্রতিশ্রুতিভঙ্গ, দান করে খোঁটা দেওয়া, তাচ্ছিল্য, আত্মপ্রচার, অযথা কথা ইত্যাদি। কুরআন-হাদীসে এমন সমস্ত বাজে কথাকে ব্যাপক অর্থে “লাগ্‌ও” (لغو) ও “ক্বাউল আয্-যূর” (قول الزَور) শব্দে চিহ্নিত করা হয়েছে, এগুলি তাকওয়ার বিপরীত ও নিষিদ্ধ সাব্যস্ত হয়েছে, এসব অভ্যেস ছাড়তে তাগিদ করা হয়েছে এবং সেইসঙ্গে তাবৎ বাজে কথা ও কাজ এড়িয়ে চলবার অবিচল সামর্থ্য অর্জনের জন্যে সিয়াম সাধনার মতো আত্মশুদ্ধি ও আত্মসংযমের কার্যকর ব্যবস্থাপত্র পেশ করা হয়েছে: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ ـ “হে মুমিনগণ! তোমাদের জন্যে রোযার বিধান দেওয়া হলো, যেমন বিধান দেওয়া হয়েছিল তোমাদের পূর্বতনদের, যাতে তোমরা তাকওয়ার অধিকারী হতে পারো।” ––– কুরআন, ২:১৮৩। তাকওয়া মানে ভয় করা, আল্লাহকে; তাকওয়া মানে দূরে থাকা, আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ সমস্তকিছু থেকে। রোযার মূল উদ্দেশ্য এ তাকওয়ার অধিকারী হওয়া এবং এরই আলোকে পুরো জীবন পরিচালনার শক্তি লাভ করা। অন্যদিকে, ‘ক্বাউল আয-যূর’ মানে এমন কথাবার্তা যা সত্য ও ন্যায়ের বিপরীত। সাধারণভাবে ‘মিথ্যা’ অর্থে প্রযুক্ত হলেও এর অর্থ শুধু মিথ্যা কথা নয়, বরং উপরিউক্ত বাজে কথার সবগুলি প্রকারকেই তা শামিল করে। ফলে কুরআনে যেমন জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সিয়াম সাধনার মূল উদ্দেশ্য হলো তাক্বওয়া হাসিল করা – ‘যূর’ বা বাজে কথা ও কাজ আমাদেরকে সেই উদ্দেশ্যে পৌঁছুতে দেয় না। এভাবেই বাজে কথা দাঁড়িয়ে যায় রোযার উদ্দেশ্যের মুখোমুখি, এবং বাক-সংযম অবলম্বন করতে না পারলে রোযাদারের রোযা অর্থহীন উপবাস ও নিছক আত্মপ্রবঞ্চনায় পর্যবসিত হয়। এজন্যেই মহানবী সা. সকলকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন: مَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّورِ وَالْعَمَلَ بِهِ فَلَيْسَ لِلَّهِ حَاجَةٌ أَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ ـ “যে-ব্যক্তি বাজে কথা ও কাজ ত্যাগ করল না, তার পানাহার ত্যাগে আল্লাহর কিছুই যায়-আসে না।” ––– বুখারী, ১৮০৪; তিরমীযী, ৭০৭। চিন্তার কথা, এ হাদীসে রোযা বা রোযাদার শব্দটি নেই। রাসূল সা. এমন বলেন নি যে, ‘কোনো রোযাদার যদি বাজে কথা ও কাজ না ছাড়ে তাহলে তার রোযায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই’; বরং বলেছেন, ‘তার পানাহার ত্যাগে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’ অর্থাৎ একেবারে সাফ কথায় জানিয়ে দেওয়া হলো: বাজে কথা ও কাজের অভ্যেস ত্যাগ করতে না পারলে বস্তুত সেটি আদৌ রোযাই হলো না, বরং খামাখা ‘পানাহার ত্যাগ’ মাত্র। এ হাদীস থেকে আরেকটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। রোযার বাহ্যিক যে-শর্ত, নির্দিষ্ট সময় ধরে পানাহার ও যৌনতা থেকে বিরত থাকা – তার চেয়ে রোযার অভ্যন্তরীণ যে-দিক, চারিত্রিক স্খলন কাটিয়ে উঠে নৈতিক পরিশুদ্ধি ও তাক্বওয়া অর্জন, রোযার পূর্ণতার প্রশ্নে তার গুরুত্ব মোটেই কম নয়। শুকরিয়া আদায় করছি মহান আল্লাহর দরবারে আজ রহমতের ১ম দিন অতিবাহিত করল মহান আল্লাহর বান্দারা অনেক কষ্ট ও ত্যাগের মাধ্যমে। মহান আল্লাহ ও তার বান্দাদের পরীক্ষা করতেছে বান্দারাও কষ্ট ত্যাগের মাধ্যমে পরীক্ষা দিচেছ। আশা করি মহান আল্লাহ বান্দাদের কষ্ট ও ত্যাগের বিনিময়ে শান্তি প্রদান করবেন
টি উত্তর

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

2 টি উত্তর
20 নভেম্বর 2018 "হাদিস" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Md Masud Rana. (2,080 পয়েন্ট)

294,395 টি প্রশ্ন

381,031 টি উত্তর

115,194 টি মন্তব্য

161,703 জন নিবন্ধিত সদস্য

বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
...