বিস্ময় অ্যানসারস এ আপনাকে সুস্বাগতম। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং বিস্ময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন...
59 জন দেখেছেন
"সিয়াম" বিভাগে করেছেন (640 পয়েন্ট)

2 উত্তর

0 টি পছন্দ
করেছেন (437 পয়েন্ট)
তারবির নামায সুন্নতে মুয়াক্কাদা। যা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। সাহাবাগণ অত্যধিক গুরুত্বের সাথে এ নামায আদায় করতেন। উম্মতের উপর ফরজ হয়ে যেতে পারে এই আশংকায় আল্লাহর নবী মাঝে মাঝে একে বর্জন করেছেন। তাই একে যথাস্ভব আদায় করতে হবে। আদায় না করলে গুনাহ হবে। তবে মাঝে মাঝে যদি কোন গুরুত্বপূর্ণ কোন কাজের কারণে ছুটে যায় তাহলে আল্লাহ তাকে মাফ করবেন ইনশাআল্লাহ। যদি কারো এই নামায ছুটে যায় তাহলে এটি আর কাজা করতে হবে না। কেননা সুন্নত নামাযের কোন কাজা হয় না। @
তথ্যসূত্র:মুহা.জহিরুল ইসলাম
0 টি পছন্দ
করেছেন (767 পয়েন্ট)
তারাবির নামাজের ফজিলত.

রমজান মাসের রাতে এশার নামাজের চার রাকাত

ফরজ ও দুই রাকাত সুন্নতের পর এবং বিতর

নামাজের আগে দুই দুই রাকাত করে ১০

সালামে যে ২০ রাকাত নামাজ আদায় করা হয়,

একে তারাবি নামাজ বলা হয়। আরবি ‘তারাবিহ’

শব্দটির মূল ধাতু ‘রাহাতুন’ অর্থ আরাম বা বিশ্রাম

করা। ইসলামের পরিভাষায়

মাহে রমজানে তারাবি নামাজ পড়াকালীন প্রতি দুই

রাকাত অথবা চার রাকাত পর পর বিশ্রাম করার

জন্য একটু বসার নামই ‘তারাবি’।

মাহে রমজানে রোজাদার সুবহে সাদিক

থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা রেখে ক্লান্ত

হয়ে যান। তারপর রাতে এশা ও তারাবি নামাজ

দীর্ঘসময় ধরে পড়তে হয়। ফলে রোজাদার খুবই

ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েন, যেখানে পরিশ্রম

ও কষ্ট বেশি, সেখানে ক্ষতিপূরণমূলক আরামের

ব্যবস্থাও আছে। অবশ্য সিয়ামের মূল লক্ষ্য

আরাম-আয়েশপ্রবণতা সংযতকরণ।

সে কারণে দীর্ঘ নামাজের কঠোর পরিশ্রম লাঘব

করার জন্য প্রতি দুই রাকাত, বিশেষ

করে প্রতি চার রাকাত পর একটু বসে বিশ্রাম

করতে হয় এবং দোয়া ও তসবিহ পাঠ করতে হয়। এ

জন্য এই নামাজকে ‘সালাতুত তারাবিহ’

বা তারাবি নামাজ বলা হয়।

রমজান মাসের নির্দিষ্ট নামাজ হচ্ছে সালাতুত

তারাবিহ। তারাবির নামাজ হলো রোজার

গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। রমজান

মাসে তারাবি নামাজ জামাতে পড়া ও সম্পূর্ণ

কোরআন শরিফ একবার খতম

করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। রাসুলুল্লাহ (সা.)

নিজে তারাবি নামাজ পড়েছেন

এবং সাহাবায়ে কিরামকেও পড়ার জন্য আদেশ

দিয়েছেন। তারাবি নামাজ নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই

সুন্নতে মুয়াক্কাদা। এ নামাজ জামাতের

সঙ্গে আদায় করা বেশি সওয়াবের কাজ।

তবে ঘরেও আদায় করা যেতে পারে। এ

নামাজে কোরআন শরিফ খতম করা অধিক

সওয়াবের কাজ। তবে সূরা-কিরাআতের

মাধ্যমে আদায় করলেও নামাজের সব সওয়াবই

পাওয়া যায়। কোরআন মজিদ যে ৫৪০

রুকুতে বিন্যাসিত হয়েছে, তা তারাবির

নামাজে প্রতিদিন ২০ রাকাতে ২০ রুকু

করে পড়লে ২৭ রমজান লাইলাতুল কদরে পবিত্র

কোরআনের সম্পূর্ণটুকু যাতে পাঠ করা সমাপ্ত

হয়, সেদিকে ইমাম সাহেবদের বিশেষভাবে খেয়াল

রাখা দরকার।

রাসুলুল্লাহ (সা.) তারাবি নামাজের জন্য রাতের

কোনো বিশেষ সময়কে নির্দিষ্ট করে দেননি।

তবে তারাবি নামাজ অবশ্যই এশার নামাজের পর

থেকে সুবহে সাদিকের পূর্ববর্তী সময়ের

মধ্যে আদায় করতে হবে। নবী করিম (সা.) এ নামাজ

বেশির ভাগ সময় রাতের শেষাংশে আদায় করতেন

এবং প্রথমাংশে বিশ্রাম নিতেন। তিনি বিভিন্ন

সময়ে বিভিন্ন রাকাত তারাবি নামাজ আদায়

করেছেন। তিনি কখনো আট রাকাত, কখনো ১৬

রাকাত, আবার কখনো ২০ রাকাত তারাবি নামাজ

আদায় করেছেন। ২০ রাকাত তারাবি নামাজ হওয়ার

স্বপক্ষে সহিহ হাদিসে হজরত ইবনে আব্বাস (রা.)

থেকে বর্ণিত আছে যে, ‘নবী করিম (সা.) রমজান

মাসে বিনা জামাতে (একাকী) ২০ রাকাত

তারাবি নামাজ আদায় করতেন, অতঃপর বিতর

নামাজ পড়তেন।’ (বায়হাকি)

মহানবী (সা.)-এর ওফাতের পর তারাবি নামাজ

ওয়াজিব হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আর থাকেনি। তাই

তারাবির প্রতি যথাযথ গুরুত্ব হজরত ওমর (রা.)-

এর আমলে কার্যকর হয়। মহানবী (সা.) রমজান

মাসে তারাবি নামাজ আদায় করার জন্য

বিশেষভাবে উৎসাহ প্রদান করতেন।

মাহে রমজানের তারাবি যদি একমাত্র ইমান ও

পরকালের প্রত্যাশার তাগিদে পড়া হয়,

তাহলে অতীতের সব অপরাধ

ক্ষমা করে দেওয়া হবে। তারাবি নামাজের ফজিলত

ও মর্যাদা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ

করেছেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে পুণ্য লাভের

আশায় রমজানের রাতে তারাবি নামাজ আদায়

করেন, তাঁর অতীতকৃত

পাপগুলো ক্ষমা করা হয়।’ (বোখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) সর্বদা তারাবি নামাজ আদায়

করতেন। তবে তিনি মাত্র চার রাত তারাবি নামাজ

জামাতে পড়েছিলেন, আর

কখনো তিনি তারাবি নামাজ জামাতে পড়েননি।

কারণ, নবীজি মনে করেছিলেন

যে যদি তিনি সর্বদা জামাতে তারাবি নামাজ আদায়

করেন, তাহলে তাঁর উম্মতেরা ভাববেন

যে হয়তো এই তারাবি নামাজ ফরজ। হাদিস

শরিফে বর্ণিত আছে, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) দুই

রাতে ২০ রাকাত করে তারাবি নামাজ পড়িয়েছেন।

তৃতীয় রাতে লোকজন জমা হলেও রাসুলুল্লাহ (সা.)

উপস্থিত হননি। পরের দিন সকালে তিনি ইরশাদ

করলেন, ‘আমি তোমাদের ওপর তারাবি নামাজ

ফরজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করেছি। তখন

তো তা তোমাদের জন্য কষ্টকর হবে।’ তাই

ইচ্ছাকৃত ও নিয়মিত নয়, বরং দৈহিক বা মানসিক

অবস্থা বিবেচনা করে ২০ রাকাত অথবা আট রাকাত

তারাবির সুন্নত নামাজ পড়ার সুযোগ আছে।

রমজান মাসে তারাবি নামাজ পড়া অত্যন্ত পুণ্যের

কাজ। তারাবি নামাজে এক খতম কোরআন শরিফ

পাঠ করা কিংবা শোনা সওয়াবের কাজ। এ

সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন,

‘আল্লাহ তাআলা রমজানের রোজাগুলো ফরজ

করেছেন এবং এর রাতে তারাবি নামাজের জন্য

দণ্ডায়মান হওয়াকে অশেষ পুণ্যের কাজ

হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।’

রমজানের পুরো এক মাস রাতে তারাবি নামাজ

জামাতে আদায়ের জন্য ধর্মপ্রাণ রোজাদার

মুসল্লিরা প্রতিদিন মসজিদে সমবেত হন। সুদীর্ঘ

একটি মাস তাঁদের পরস্পরের মধ্যে দেখা-সাক্ষাৎ

হওয়ার ফলে নামাজিদের মধ্যে একে অপরের

প্রতি মমত্ববোধ, সমতা ফিরেআসে।

[collected ]

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

3 টি উত্তর
04 জুন 2018 "ইসলাম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন I love allah (121 পয়েন্ট)

293,277 টি প্রশ্ন

379,743 টি উত্তর

114,805 টি মন্তব্য

160,948 জন নিবন্ধিত সদস্য

বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
...