বিস্ময় অ্যানসারস এ আপনাকে সুস্বাগতম। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং বিস্ময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন...
43 জন দেখেছেন
"ইসলাম" বিভাগে করেছেন (20 পয়েন্ট)

2 উত্তর

0 টি পছন্দ
করেছেন (1,214 পয়েন্ট)
কিয়ামত আরবি শব্দ। অর্থ মহাপ্রলয়, পুনরুত্থান। ইয়াওমুল কিয়ামত কিয়ামা, অর্থ কিয়ামতের দিবস। কিয়ামত দিবসের আরো নাম আছে। যেমন: ইয়াওমুল জাজা বা প্রতিদান দিবস, ইয়াওমুল হিসাব বা হিসাবের দিবস, ইয়াওমুল কাজা বা বিচার দিবস, ইয়াওমুদ-দিন বা শেষ বিচারের দিন, ইয়াওমুল হাশর বা সমাবেশের দিন, ইয়াওমুল জাময়ে বা একত্রিত করার দিন, ইয়াওমুল বায়াছ বা পুনরুত্থান দিবস ইত্যাদি। ***কিয়ামত কখন অনুষ্ঠিত হবে? হজরত জিব্রাঈল (আ.) একদা ছদ্মবেশে মহানবী (সা.)-এর কাছে হাজির হয়ে আরজ করেন, কিয়ামত কখন অনুষ্ঠিত হবে? মহানবী (সা.) বলেন, জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি থেকে জিজ্ঞাসাকারী অধিক জ্ঞাত নয়। অর্থাৎ কিয়ামত কখন অনুষ্ঠিত হবে, তা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানেন না। আল্লাহ ইরশাদ করেন, কিয়ামতের জ্ঞান কেবল তাঁরই জানা। তাঁর জ্ঞানের বাইরে কোনো ফল আবরণমুক্ত হয় না এবং কোনো নারী সন্তান প্রসব ও গর্ভধারণ করে না। (সুরা : হা-মিম- সাজদা : ৪৭) অপর আয়াতে বলা হয়েছে, তারা আপনাকে জিজ্ঞেস করে, কিয়ামত কখন হবে? আপনি বলে দিন, এর খবর তো আপনার পালনকর্তার কাছেই রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে তিনি তা পরিষ্কারভাবে দেখাবেন (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৮৭) মহানবী (সা.) বলেন, গুপ্ত জ্ঞানের বিষয় পাঁচটি: ১. কিয়ামত। তা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানেন না। ২. আগামী দিন কী ঘটবে আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না। ৩. কখন বৃষ্টি হবে, তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না। ৪. কার কোথায় মৃত্যু হবে, আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না। ৫. কখন কিয়ামত হবে, আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না। (সহিহ বুখারি)। ***কিয়ামতের আলামত: কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার আগে কিছু নিদর্শন দেখা যাবে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, তারা কি শুধু এই অপেক্ষায় রয়েছে যে কিয়ামত তাদের কাছে হঠাৎ এসে পড়ুক। বস্তুত কিয়ামতের লক্ষণগুলো তো এসেই পড়েছে। সুতরাং এসে পড়লে তারা কিভাবে উপদেশ গ্রহণ করবে? (সুরা : মুহাম্মদ, আয়াত : ১৮) হজরত জিব্রাঈল (আ.) মহানবী (সা.) থেকে কিয়ামতের কিছু আলামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিয়ামতের একটি আলামত হলো, দাসী তার মনিবকে প্রসব করবে, অর্থাৎ ছোটলোকের ঘরে বড়লোক জন্মগ্রহণ করবে। আরেকটি আলামত হলো, নগ্ন পাবিশিষ্ট ও বস্ত্রহীন মেষচালক বিশাল বিশাল প্রাসাদ তৈরি করবে এবং এ কাজে তারা পরস্পর গর্ব করবে। অর্থাৎ একসময় যারা গরিব ছিল, পরবর্তী সময়ে তারা ধনী হয়ে অহংকারী হবে। (মিশকাত)
0 টি পছন্দ
করেছেন (6,943 পয়েন্ট)
  • কিয়ামতঃ কিয়ামত শব্দের অর্থ মহাপ্রলয়, পুনরুত্থান, বিচার দিবস, শেষ বিচারের দিন। যে দিন মহান আল্লাহ তায়ালা বিশ্বজগৎ ধ্বংস করবেন, মানব ও জ্বিন দেহের পুনুরুত্থান ঘটাবেন, তাদের বিচার করবেন এবং চিরস্থায়ীভাবে কর্মফল প্রদান করবেন, তাকে কিয়ামত বলে। কিয়ামত বা বিচার দিবসকে বিবেচনা দিবস (The Day of Reckoning), প্রতীক্ষিত ঘন্টা (The Hour) ও শেষ দিবসও (The Last Day) বলা হয়ে থাকে। এই নির্দিষ্ট সময়টি শুধু আল্লাহ পাক'ই ভালো জানেন। যারা মারা গিয়েছিল, তারা মনে করবে যে, জন্ম ও মৃত্যুর মধ্যকার একটি স্বল্প সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। তখন আল্লাহ ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। আল্লাহ সকলকে পুনরুত্থিত করবেন, এমনকি তারা যদি পাথর এবং লোহায় রুপান্তরিত হয় তবুও। যারা মিথ্যা দেবদেবীকে উপাস্যরুপে গ্রহণ করেছিল, তারা পরকালে শাস্তি ভোগ করবে।
  • কিয়ামতের বড় লক্ষণসমূহঃ
  1. মিথ্যা মসীহ বা মসীহ দাজ্জাল একচোখ অন্ধ, একচোখ সুস্থ এবং বিশাল ক্ষমতা নিয়ে আত্মপ্রকাশ করবে এবং নিজেকে আল্লাহ বলে দাবি করবে।
  2. ইমাম মাহদীর আত্মপ্রকাশ।
  3. মানুষ মদীনা ত্যাগ করবে, খাঁটি মুমিনগণ মাহদীকে অণুসরণ করবে এবং কাফিররা করবে দাজ্জালকে।
  4. দাজ্জালকে হত্যা এবং ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য দ্বিতীয় আসমান থেকে হযরত ঈসা (আঃ) এর প্রত্যাবর্তন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি পৃথিবী শাসন করবেন।
  5. ইয়া'জুজ এবং মা'জুজ নামক অবাধ্য প্রাণীর দুটি গোত্র , যারা যুলকারণাইনের সাহায্যে বন্দী হয়েছিল তারা বেরিয়ে আসবে।
  6. মক্কায় আক্রমণ করা হবে এবং কাবাঘর ধ্বংস করা হবে।
  7. দক্ষিণ দিক থেকে এক সুখকর বাতাসের আগমণ যার স্পর্শে সকল মুমিনের প্রশান্তিময় মৃত্যু ঘটবে।
  8. মানুষ কুরআন ভুলে যাবে এবং কেউ এর আয়াত স্মরণ করবে না।
  9. ইসলামী জ্ঞান লোপ পাবে। যেখানে কেউ কালেমা "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" পাঠ করবে না, কিন্তু তার পরিবর্তে বৃদ্ধ লোকেরা না বুঝে "আল্লাহ, আল্লাহ" বলে বিড়বিড় করবে।
  10. 'দাব্বাতুল আরদ' নামক পশু মানুষের সাথে কথা বলার জন্য ভূগর্ভ থেকে বেরিয়ে আসবে।
  11. মানুষ রাস্তাঘাটে 'গাধাদের মত' ব্যভিচার করবে।
  12. একটি বিশাল কালো ধোঁয়ার মেঘ পৃথিবীকে ঢেকে ফেলবে।
  13. পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উঠবে।
  14. ইস্রাফিল (আঃ) এর প্রথম শিঙ্গার ফুকে আল্লাহর নিষিদ্ধ বস্তু ছাড়া সবকিছু ধ্বংস হবে ও চল্লিশ দিন নীরবতা থাকবে।
  15. দ্বিতীয় ফুকে সকল মৃত মানুষ পুনরুত্থিত হবে এবং একটি অগ্নিকুন্ড তাদের বিচারের জন্য হাশরের মাঠে একত্রিত করবে।
  • কিয়ামতের ছোট লক্ষণসমূহঃ
  1. সময় খুব দ্রুত বয়ে যাবে।
  2. ভালো কাজ হ্রাস পাবে।
  3. মানুষ কৃপণ হয়ে যাবে।
  4. খুন এবং হত্যা বেড়ে যাবে।
  5. ভুল ব্যক্তিকে ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব দেওয়া হবে।
  6. সততা হারিয়ে যাবে।
  7. জ্ঞানের বিলোপ ও অজ্ঞতার বৃদ্ধি।
  8. ফোরাত নদীর তল থেকে একটি স্বর্ণের পাহাড় সিলগালা করে দেয়া হবে, কেউ তা থেকে কিছু নেবে না।
  9. ৩০ জন ভন্ড নবীর আগমণ।
  10. একই ধর্মের দুটি বৃহত্তর ধর্মীয় দল একে অপরের সঙ্গে লড়াই করে অসংখ্য দুর্ঘটনা ঘটাবে।
  11. ভূমিকম্প বৃদ্ধি পাবে।
  12. সম্পদের প্রাচুর্য এতটাই বৃদ্ধি পাবে যে, যাকাত নেয়ার মতো লোক খুঁজে পাওয়া কষ্টকর হবে।
  13. যখন লোকেরা বড় বড় দালান তৈরি করতে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় লেগে যাবে।
  14. কোনো এক লোক কবরের পাশে দিয়ে হেটে যাবে আর আশা করবে যদি সে নিজে সেখানে থাকতে পারতো।
  15. মুসলিমদের দ্বারা কনস্টানটিনোপল বিজয়।
  16. গাছ ও পাথর ইহুদির বিরুদ্ধে লড়তে মুসলিমদের সাহায্য করবে।
  17. মাদকদ্রব্য গ্রহণ ব্যাপক বিস্তার লাভ করবে।
  18. ব্যভিচার ও অবৈধ যৌন সম্পর্ক সহজ হয়ে যাবে।
  19. নারীদের সংখ্যা পুরুষের তুলনায় বেড়ে যাবে, এমনকি একজন পুরুষের বিপরীতে হবে পঞ্চাশজন মহিলা হবে।
  20. মানুষ মসজিদের ক্ষমতার জন্য কঠোর সংগ্রাম করবে।
  21. ভালো মানুষেরা প্রতারিত হবে।
  22. যাকাত প্রদানকে সবাই বোঝা মনে করবে এবং কৃপণতা বেড়ে যাবে। দান করা হবে অনিচ্ছুকভাবে।
  23. নেতাগণ আল্লাহর বিধান অনুযায়ী শাসন করবেন না।
  24. শুধু ধনীরাই লাভের ভাগ পাবে, গরিবেরা পাবে না।
  25. নিকৃষ্টতম লোকেরা জনগণের নেতা হবে।
  • তথ্যসূত্রঃ
  1. উইকিপিডিয়া (ইসলামী পরকালবিদ‍্যা)।
  2. কুরআন 74:38
  3. কুরআন 71:18
  4. কুরআন 31:34
  5. কুরআন 74:47
  6. কুরআন 2:8
  7. কুরআন 33:63
  8. কুরআন 6:57
  9. কুরআন 10:45
  10. কুরআন 28:88
  11. কুরআন 17:49
  12. কুরআন 11:17
  13. কুরআন 44:10
  14. সহীহ মুসলিম, হাদীস সংখ্যা-৬৯৫১
  15. সহীহ বুখারী, হাদীস সংখ্যা-৭১২৮
  16. সহীহ বুখারী, হাদীস সংখ্যা-৭১৩১
  17. সহীহ বুখারী, হাদীস সংখ্যা-৭১৩০
  18. সহীহ বুখারী, হাদীস সংখ্যা-৭১২৪
  19. সহীহ বুখারী, হাদীস সংখ্যা-৭১২৭
  20. সহীহ বুখারী, হাদীস সংখ্যা-৭১২৯
  21. সহীহ বুখারী, হাদীস সংখ্যা-১৩৭৭
  22. সহীহ বুখারী, হাদীস সংখ্যা-৩৩৪৮
  23. সহীহ বুখারী, হাদীস সংখ্যা-৩৩৪৬
  24. ইবনে মাজাহ, হাদীস সংখ্যা-৪০৮০
করেছেন (2,948 পয়েন্ট)

প্রশ্নকর্তার পক্ষে উত্তরগুলো যাচাই করা সম্ভব নয়। আশা করবো কোনো দূর্বল হাদীস  থেকে মন্তব্য করেন নি।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
18 নভেম্বর "ধর্ম ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাস" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন আখাউড়ার ছেলে সিফাত (155 পয়েন্ট)
3 টি উত্তর
08 সেপ্টেম্বর "আইকিউ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন আদিব মাহমুদ (1,425 পয়েন্ট)
0 টি উত্তর
06 অগাস্ট "স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন অজ্ঞাতকুলশীল

353,713 টি প্রশ্ন

447,819 টি উত্তর

140,242 টি মন্তব্য

188,383 জন নিবন্ধিত সদস্য

বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
...