বিস্ময় অ্যানসারস এ আপনাকে সুস্বাগতম। এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং বিস্ময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন...
76 জন দেখেছেন
"ফাতাওয়া-আরকানুল-ইসলাম" বিভাগে করেছেন (9 পয়েন্ট)
আমি একজন সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র। আমি চাই কোরআনের হাফেজ ও হাদীস বিশারদ হতে এবং একজন ভাল ক্বারী হতে কোনরকম মাদ্রাসায় পড়া ছাড়া ডক্টর জাকির নায়েকের মত। আমার পক্ষে কী এটা সম্ভব? 

3 উত্তর

+2 টি পছন্দ
করেছেন (998 পয়েন্ট)
আপনি সপ্তম শ্রেণির একজন স্কুল পড়ুয়া ছাত্র। আপনি মাদ্রাসায় না পড়লেও স্কুলে পড়েই একজন ভালো আলেম, হাদীস বিশারদ ও ক্বারী হতে চাইছেন। মাদ্রাসায় না পড়েও আপনি একজন ভালো আলেম, হাদীস বিশারদ ও ক্বারী হতে পারেন, যেভাবেঃ ১। লেখাপড়ার পাশাপাশি দৈনিক দুই থেকে আড়াই ঘন্টা একজন ভালো আলেমের শরণাপন্ন হয়ে বিশুদ্ধভাবে কুরআন ও হাদীস শিক্ষা করতে হবে। ২। বাড়িতে একজন কুরআনে হাফেজ রেখে তার কাছে বিশুদ্ধভাবে কুরআন হেফজ করতে পারেন। ৩। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে হবে। ৪। কালেমা, নামাজ, রোজা, হজ্জ্ব, যাকাত, জিকির, কুরআন তিলাওয়াত ও হাদীস পাঠ করতে হবে। ৫। পবিত্র কুরআন নিয়ে রিসার্চ করতে হবে। ৬। পবিত্র হাদীস নিয়ে রিসার্চ করতে হবে। ৭। কুরআনের আয়াত ও হাদীস বিশুদ্ধভাবে মুখস্থ করতে হবে। ৮। অর্থসহ বুঝে বুঝে কুরআন-হাদীস পড়তে হবে। ৯। নিয়মিত মাথায় টুপি পরিধান করতে হবে। ১০। চোখের দৃষ্টিকে সবসময় নিচের দিকে (মাটির দিকে) রেখে চলাফেরা করতে হবে। ১১। দাঁড়ি উঠলে দাঁড়িতে কোনোদিন ক্ষুর লাগানো যাবে না। ১২। দাঁড়িয়ে খাওয়া-দাওয়া এবং পানীয় পান করা যাবে না। ১৩। হারাম খাদ‍্য খাওয়া ও হারাম পানীয় পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ১৪। দাঁড়িয়ে কখনো প্রস্রাব-পায়খানা করা যাবে না। ১৫। কখনো লোভ, হিংসা, অহংকার, অলসতা করা যাবে না। ১৬। হামদ-নাত শুনতে হবে। অনৈসলামিক গান শোনা থেকে বিরত থাকতে হবে। ১৭। টাখনুর নিচে কখনো প‍্যান্ট, পায়জামা বা টাউজার্স পরিধান করা যাবে না। ১৮। (বিশেষতঃ সাদা রঙের) পায়জামা-পান্জাবী, ফুল হাতা সেন্টু গেঞ্জি, টাউজার্স, লুঙ্গি পরিধান করার অভ‍্যাস গড়ে তুলতে হবে। ১৯। স্কুল, কলেজ, ভার্সিটিতে পড়লেও মক্তব, মাদ্রাসা, মসজিদ, আলেম ও হাফেজদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থাকতে হবে। ২০। লাজুক হতে হবে। ২১। পর্দা করতে হবে তথা অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকতে হবে। ২২। নিয়মিত দান-খয়রাত করতে হবে। ২৩। শিশু-বৃদ্ধদের ভালোবাসতে হবে। ২৪। বড়দের সম্মান করতে হবে এবং ছোটদের আদর করতে হবে। ২৫। আজান হওয়ার সাথে সাথে দুনিয়ার সকল কাজকর্ম বন্ধ রেখে মসজিদে ফরজ নামাজ পড়ার জন‍্য রওয়ানা করতে হবে। ফরজ নামাজ মসজিদে এবং সুন্নাত ও নফল নামাজ ঘরে পড়া উত্তম। তাহলে ঘর ও মসজিদ উভয় জায়গাতেই আপনি রহমতপ্রাপ্ত হবেন। ২৬। নিয়মিত ঘরে কুরআন তিলাওয়াত করতে হবে। ২৭। অন‍্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে। ২৮। শয়তান মানুষের প্রকাশ‍্য শত্রু। সবসময় শয়তান মানুষকে বিপথে নেওয়ার চেষ্টা করে। তাই শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ২৯। ইসলাম আল্লাহর মনোনীত একমাত্র ধর্ম। বাকি সব ধর্ম মানব রচিত। তাই ইসলাম ব‍্যতীত অন‍্য কোনো ধর্ম বা ধর্মের কার্যাবলীকে শ্রদ্ধা বা অনুসরণ করা যাবে না। তবে পৃথিবীর সকল মানুষকে মায়া করতে হবে, যেমনটি মহান আল্লাহ তায়ালা করেন। তিনি ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষকেই মায়া করেন, তাঁর সকল সৃষ্টিকেই ভালোবাসেন, রিজিক দান করেন। ৩০। যেসব অমুসলিম ইসলামকে ভালো চোখে দেখে, তাদের সাথে বন্ধুত্ব করা যাবে। তবে যেসব অমুসলিম বা নাস্তিক ইসলামকে সহ‍্য করতে পারে না, তাদের সাথে বন্ধুত্ব করা যাবে না। ৩১। মুসলমান, অমুসলমান প্রত‍্যেককেই ইসলামের দাওয়াত প্রদান করতে হবে। ৩২। ভালোবাসা আর সুন্দর ব‍্যবহার দিয়ে মুসলমান ও অমুসলমান প্রত‍্যেকের মন জয় করে নিতে হবে। ৩৩। সবকিছুর উর্ধ্বে মহান আল্লাহ তায়ালা ও হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)-কে ভালোবাসতে হবে। তারপর মা-বাবাকে ভালোবাসতে হবে। ৩৪। যে মানুষ (মুসলমান হোক কিংবা অমুসলমান হোক) কুরআন ও হাদীসকে আঁকড়ে ধরে, সে কখনো পথভ্রষ্ট হবে না। তাই কুরআন ও হাদীসকে আঁকড়ে ধরতে হবে তথা কুরআন ও হাদীস মোতাবেক জীবন গড়তে হবে। ৩৫। আপনার আমার আদর্শ হবে একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালা ও হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) তথা আল্লাহর বাণী ও রাসূল (সাঃ)-এর সুন্নাত। ৩৬। উপরোক্ত উপায়ে আপনি মাদ্রাসায় না পড়লেও স্কুলে পড়েই কুরআন, হাদীস, হাফেজ, আলেম, ক্বারী, মাওলানা ও হাদীস বিশারদদের সাথে সংযোগ স্থাপন করে একজন ভালো আলেম, হাফেজে কুরআন, হাদীস বিশারদ ও ক্বারী হতে পারেন। ৩৭। ইচ্ছা থাকলে উপায় হয় (Where there is a will, there is a way)। ধন‍্যবাদ।
+1 টি পছন্দ
করেছেন (6,789 পয়েন্ট)
আপনি কোন রকম মাদ্রাসায় না পড়ে আলেম হতে পারবেন না। কেননা, কারো কোন কিছু জানা না থাকলে যারা জানে তাদের নিকট মানার উদ্দেশ্যে জেনে নিতে হবে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, সুতরাং যদি তোমরা না জান তবে জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস কর। (আম্বিয়াঃ ৭)

এ আয়াত থেকে জানা গেল যে, শরীআতের বিধি বিধান জানে না, এরূপ মূর্খ ব্যক্তিদের উপর আলেমদের অনুসরণ করা ওয়াজিব। তারা আলেমদের কাছে জিজ্ঞেস করে তদনুযায়ী আমল করবে।

যেহেতু আপনি কোরআনের হাফেজ ও হাদীস বিশারদ এবং একজন ভাল ক্বারী হতে চাইছেন এজন্য মাদ্রাসায় পড়া ছাড়া অন্য কোন পথ নেই।
করেছেন (290 পয়েন্ট)
>>>>>>ঠিক<<<<<
0 টি পছন্দ
করেছেন (55 পয়েন্ট)
আপনি আলেম হতে পারবেন। কুরআন শরীফ জানতে হবে। হাদিস বিষয়ে জ্ঞান থাকতে হবে। ইসলাম বিষয়ে সম্মক জ্ঞান থাকতে হবে। ধর্মের প্রতি অনুরাগ হতে হবে। আরো অনেক কিছু করতে হবে। আপনি আলেম হতে পারবেন।
টি উত্তর

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

300,240 টি প্রশ্ন

388,070 টি উত্তর

117,299 টি মন্তব্য

165,662 জন নিবন্ধিত সদস্য

বিস্ময় বাংলা ভাষায় সমস্যা সমাধানের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন অনলাইনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।
...